মাদারীপুর-২ আসনের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ মিল্টন বৈদ্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম এলাকায়ছবি: প্রথম আলো
মাদারীপুর-২ (একাংশ সদর ও রাজৈর) আসনের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ মিল্টন বৈদ্য। এ সময় এই আসনের বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়ার বিরুদ্ধে ভোটে নানা কারচুপির অভিযোগ তোলেন তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম এলাকায় প্রার্থীর নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় তাঁর বাড়িতে পরিবারের লোকজন ছাড়াও কর্মী–সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ৬১ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থক ও কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে বেশ কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনাও রয়েছে। তবে সংঘাত এড়াতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাবের সদস্যদের টহল ও বিভিন্ন স্থানে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পরাজিত প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য বলেন, ‘আশা ছিল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ভোট হবে। প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোট হবে সেটাই ভেবেছিলাম। কিন্তু দেখা গেছে, মাদারীপুর সদরের রাস্তি, কুলপদ্বীসহ অনেকগুলো কেন্দ্রে আমার এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের রেজাল্ট শিটে ফলাফল ঘোষণার আগেই এজেন্টদের থেকে সই রেখে তাঁদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সদরে বেলা ৩টা পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট পড়লেও আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ১৫ শতাংশ ভোট বেড়ে যায়, যা ছিল সন্দেহজনক। বিষয়গুলো নির্বাচনের দিন আমি অনেক কেন্দ্রেই হাতেনাতে ধরে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থাও নিতে পারেনি।’
মিল্টন বৈদ্য বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণ যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে তার প্রতিফলন ঘটেনি। নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের আগেই প্রার্থী বিজয়মিছিল করেছে। বিএনপির ডামি প্রার্থী শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তাঁর ভাই লিটন খান ও শিপন খান দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ মিছিল নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চলাতে এসেছিল। কিন্তু আমার কর্মী–সমর্থকেরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে আমার কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।’
মিল্টন বৈদ্য বলেন, ‘নির্বাচনে ৪৬ হাজার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে এই ভোটাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমার বাড়িতে দিন–রাত পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। আমার কর্মী–সমর্থক ও ভোটারদের বাড়িতে কে পাহারা দেবে? নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে রাজৈর এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়াকে সহিংসতা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে মিল্টন বৈদ্য বলেন, ‘আমি অনুরোধ করে বলছি, সহিংসতার রাজনীতি ছাড়ুন। সংঘাত থেকে সরে আসুন। নির্বাচনে যে যার জায়গা থেকে পছন্দের মানুষকে ভোট দিয়েছে। এখানে কেউ সহিংসতা চায় না। আপনি দয়া করে সহিংসতা করবেন না। এতে দিন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সবাই হব।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামিনুর হোসেন (মিঠু) প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে কোন অনিয়ম হয়নি। কোনো ভোটারকে ভয় দেখানোর কাজ কেউ করেনি, এজেন্টদের বেরও কেউ করেনি। তাঁর (মিল্টন বৈদ্য) অভিযোগ কতটুকু যৌক্তিকতা আছে সেটা তিনিই জানেন। তবে দালালিক প্রমাণ ছাড়া এসব অভিযোগ শুধু বলার জন্য বলা। অভিযোগকারী প্রার্থী নিজেও জানেন তাঁর দাবি অসত্য।